পায়ে পায়ে পার্ক স্ট্রীট

 

সুব্রত ঘোষের কলমে –

এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবের আর একটি আন্তরিক প্রয়াস ছিল “ পায়ে পায়ে পার্ক স্ট্রীট “। এর কয়েকদিন আগেই এমন আর একটি প্রয়াসের সাক্ষী ছিলাম আমরা, যেখানে “পুরনো কলকাতার গল্প” গ্রুপ উদ্যোগ নিয়েছিলেন উত্তর কলকাতার ঝামাপুকুর আর কর্ণওয়ালিশ স্ট্রীট অঞ্চলকে নতুন করে আবিষ্কার করার, এই এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবেরই ঐতিহ্য-সহযোগী হয়ে। এবারেও, ঠিক তেমন ভাবেই সেই এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবের অঙ্গ হিসেবেই আরও একটি উদ্যোগ – কলকাতার পার্ক স্ট্রীট অঞ্চলকে চেনানো । তবে পার্ক স্ট্রীট বলতে যে ছবি আমাদের মনে ভেসে ওঠে – সারি সারি অভিজাত রেস্তোরাঁ, দেশ বিদেশের নানা খাবারের সম্ভার, চারপাশের বিশাল সব বাড়ীতে ঝাঁ চকচকে সব অফিস, আলো ঝলমল রাস্তায় উজ্জ্বল তরুণ তরুণী আর নানা কোম্পানির নতুন নতুন মডেলের গাড়ী – সেই পার্ক স্ট্রীটের গল্প কিন্তু এটি নয়। এই চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও একটি পার্ক স্ট্রীট – যার একপ্রান্তে যদি থেকে থাকে এশিয়াটিক সোসাইটির মত ভারতের শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস আর সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র, তাহলে তার অন্য প্রান্তে আছে – ঠিক তেমনই শতাব্দী প্রাচীন কিছু সমাধিস্থল, যেখানে আরো বহু মানুষের সঙ্গে অনেকের চোখের আড়ালেই চির বিশ্রামে শুয়ে আছেন – বেথুন সাহেব, দীনবন্ধু অ্যানড্রুজ, মাইকেল মধুসুদন, ডিরোজিও, উইলিয়াম জোন্স – প্রমুখ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। আর পার্ক স্ট্রীটের এই দুই প্রান্তকে বেঁধে রেখেছে মাঝখানের সেন্ট জেভিয়ারস কলেজ। এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবের উদ্দেশ্যই ছিল পার্ক স্ট্রীটের এই আত্মার সন্ধানে যাত্রা । আর তাই তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন পার্ক স্ট্রীট সংলগ্ন দুটি সমাধিস্থলকে – আমাদের ফেলে আসা অতীতের শিক্ষা ও সংস্কৃতি জগতের সেই সব বরেণ্য মানুষকে নতুন করে স্মরণের উদ্দেশ্যে। দিনটিও ছিল – “ All Souls’ Day “ – যেদিন খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা ফুল প্রদীপ আর মোমবাতির অর্ঘ নিবেদন করেন পরলোকগত পূর্বপুরুষের আত্মার উদ্দেশ্যে। নীরব সমাধিস্থল হয়ে ওঠে মুখর – ফুলের মালায়, ধুপের ধোঁয়ায়, প্রদীপ আর মোমবাতির আলোয় । সুন্দর এক দিনে নতুন করে এক আবিষ্কারের যাত্রায় এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবের উৎসাহীরা – সঙ্গে আমন্ত্রিত হিসেবে “ পুরনো কলকাতার গল্প “ –এর সদস্যরা। এই আমন্ত্রণ সম্মানের, এই সহযোগ ঐতিহ্যের। কলকাতাকে নতুন করে চেনায় এ আমাদের সম্মিলিত যাত্রা।DSC04063.JPG

শুরু করা হয়েছিল লোয়ার সার্কুলার রোডের ওপর ( বর্তমান জগদীশ চন্দ্র বসু রোড ) লোয়ার সার্কুলার রোড সিমেট্রি দিয়ে। এটি পার্ক স্ট্রীটের ওপরে নয়, কিন্তু পার্ক স্ট্রিটের মুখের খুব কাছেই । ১৮৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সমাধিস্থল কিন্তু আজও সচল। একশো সত্তর বছরের পুরনো আর প্রায় তেত্রিশ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই সমাধিস্থলে আছে প্রায় বারো হাজার সমাধি। এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবের পক্ষ থেকে এখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল বাংলা সাহিত্যের অন্যতম অগ্রণী মাইকেল মধুসূদনের সমাধি দর্শন আর তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। অনেক সমাধি স্তম্ভের মাঝে মধুসূদন এখানে আছেন চিরবিশ্রামে, পাশেই তাঁর জীবনসঙ্গিনী হেনরিয়েটা। জায়গাটি লোহার রেলিঙ দিয়ে ঘেরা, তার মাঝে দুটি সমাধি, সেই সঙ্গে একটি স্মৃতিস্তম্ভ ও মাইকেলের মূর্তি। তবে শুধু মাইকেলই নন – এখানে আছে আমাদের দেশে স্ত্রী শিক্ষা প্রচারের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন সাহেবের সমাধি, গান্ধীজী আর রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য চার্লস ফ্রিয়ার অ্যানড্রুজ এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল হরেন্দ্র কুমার মুখার্জির সমাধিও। তবে আমাদের ছিল সময়াভাব – তাই বিশেষ করে দেখতে পেরেছিলাম শুধু মাইকেল আর বেথুন সাহেবের সমাধিই। কিন্তু সেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সাক্ষী থাকলাম এক অসাধারণ পরিবেশের। বছরে অন্য অনেকদিন যেখানে এই সমাধিস্থল থাকে নির্জন, প্রায় নিঃসঙ্গ – সেদিনে, সেই All Souls’ Day তে তা মুখরিত বহু বিশ্বাসী আর শ্রদ্ধাশীল মানুষের আগমনে। বিভিন্ন সমাধি সেজে উঠেছে ফুলে, প্রদীপে, মোমবাতিতে । দীর্ঘদিন আগে পরপারে চলে যাওয়া মানুষদের স্মরণে এসেছেন তাঁদেরই উত্তরসূরিরা – শ্রদ্ধা আর ভালবাসার ডালি নিয়ে । সেই দলে আছেন ছোট শিশুরা থেকে শুরু করে অশীতিপর মানুষেরাও। কেউ এসেছেন একলা, আবার কেউ বা দল বেঁধে। নিজেদের প্রিয়জনের সমাধিকে সাজিয়ে তাঁরা বসে আছেন নির্বাক শ্রদ্ধায় এবং পরম বিশ্বাসে – হয়ত বা ওপার থেকে তাদের সেই হারিয়ে যাওয়া পূর্বপুরুষরা নেমে আসছেন তাঁদের স্মরণ আর শ্রদ্ধার ডালি গ্রহণ করতে। তাঁদের চোখে তো দেখা যায় না – শুধু বিশ্বাস করতে ভাল লাগে কোথাও তাঁরা আছেন আমাদের প্রতি স্নেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে, বেঁচে আছেন আমাদের স্মৃতিতে, ভালবাসায় ।

DSC04081

Michael Madhusudhan Dutt’s Cemetry along with his wife Henriata

এর পরের গন্তব্য আমাদের কলকাতার বিখ্যাত South Park Street Cemetery বা সংক্ষেপে SPSC. লোয়ার সার্কুলার রোড সিমেট্রি থেকে হাঁটা পথেই এই ঐতিহাসিক সমাধিস্থল। আসলে একটা সময় এই স্থানটি ছিল বিভিন্ন কবরস্থানের জন্যই বিখ্যাত। Lower Circular Road Cemetery, Scottish Cemetery, French Cemetery, North Park Street Cemetery, South Park Street Cemetery – এসবই ছিল এই এলাকার মধ্যেই। কলকাতা তখনও পুরো কলকাতা হয়ে ওঠেনি, অনেকখানি বড় হয়ে গিয়ে চারপাশে এমন ভাবে ছড়িয়ে পড়েনি । তখন এই অঞ্চলটি ছিল কলকাতা শহরের কিছুটা উপান্তেই – তাই কারোর মৃত্যুর পর একটু শান্তিতে চিরবিশ্রামের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল এই অঞ্চলটিকেই। কালের অগ্রগতির কাছে হার মানতে হয়েছে সেই সব ইতিহাসকে – বিলুপ্ত হয়ে গেছে French Cemetery, তার কোন চিহ্ন আজ আর নেই। North Park Street Cemetery ও আজ প্রায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত – তার শত শত সমাধি স্তম্ভের মধ্যে কোন এক অজ্ঞাত কারণে টিকে আছে মাত্র একটি সমাধি স্মারক – Robertson’s Tomb. তাও তাকে খুঁজে পেতে হয় একটু কষ্ট করেই – বিশাল এক বাড়ীর এক কোণায় বন্ধ এক গেটের ওপারে সে নীরবে বহন করে চলেছে এক হারিয়ে যাওয়া সমাধি ক্ষেত্রের ইতিহাস। কারণ কালের নিয়মে এই North Park street Cemetery আর French Cemetery কে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে আধুনিক স্কুল, হাসপাতাল আর ব্যাংক কে।
হারিয়ে যাওয়া ওই সমাধি দুটির ভাগ্য কিন্তু বইতে হয়নি – South Park Street Cemetery বা SPSC কে। রাস্তার ঠিক অপর পারেই সে এখনও দাঁড়িয়ে আছে গর্বের সঙ্গে – বরং বলা যায় অত্যন্ত যত্নের সঙ্গেই। ১৭৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই সমাধি বন্ধ হয়ে যায় – ১৭৯০ সালে, অন্তত প্রবেশপথের পাশের ফলক সেই কথাই বলে। কিন্তু এখানেই আবার দেখতে পাই হেনরি ডিরোজিওর সমাধি – যিনি শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন ১৮৩১ সালে, মাত্র ২২ বছর বয়সে। তাঁর সমাধিও কিন্তু এখানেই। আরও আছেন উইলিয়াম জোন্স – তাঁর চলে যাওয়াও ১৭৯৪ সালে মাত্র ৪৭ বছর সময়ে। ( সেই সময়ের বিদগ্ধ মানুষেরা কি অনেকেই এত তাড়াতাড়ি চলে যেতেন ? )। তাই প্রশ্ন জাগে – এই সমাধিস্থল কি সত্যিই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ১৭৯০ সালে না কি তার পরেও এটি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়েছে ? কলকাতা কর্পোরেশনের তথ্য জানাচ্ছে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ১৮৪০ সালে, যখন লোয়ার সার্কুলার রোড সিমেট্রি তার যাত্রা শুরু করে। তবে সাল তারিখ যাই হোক না কেন – এটা ঠিক যে, এই সমাধি আজ প্রায় দুশো বছর ধরে বন্ধ, নতুন কোন সমাধি দেওয়া হয় না এখানে। তাই ইতিহাস এখানে থমকে আছে – প্রায় ১৬০০ সমাধি স্তম্ভ বুকে করে নিয়ে। সম্পূর্ণ নির্জন, নিস্তব্ধ এই বিশাল সমাধিক্ষেত্র – তার বিভিন্ন আকৃতির স্মারক স্তম্ভ গুলির পাশ দিয়ে যেতে গেলে শুধু শুকনো পাতার শব্দ আর পাখীর ডাকে নিস্তব্ধতা যেন আরও বেশী করে ঘিরে ধরে। আমরা গিয়েছিলাম সন্ধ্যের পরে – সে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা । কোন ভিড় নেই, কেউই আসেননি এখানে – শুধু মাঝে মাঝেমাঝে একটি দুটি সমাধির কাছে অল্প কিছু প্রদীপ জ্বালানো । মাথার অনেক ওপরে আকশে প্রায় পূর্ণিমার চাঁদ, আর দূরে দূরে ঐরকম কিছু নিষ্কম্প প্রদীপ, তাতে তিনশো বছরের সেই প্রাচীন কবরখানার অন্ধকার যেন আরো জীবন্ত হয়ে উঠেছে । বিশাল সব গাছের ছায়া আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে – তাদের সঙ্গে এসে মিশেছে নানা আকারের সারি সারি স্মৃতিস্তম্ভের ছায়া। চাঁদের আলো হারিয়ে যাচ্ছে সেই অন্ধকারের মধ্যে, প্রদীপের আলো কোনো থামের আড়াল থেকে উঁকি মারছে সেই থামেরই ছায়াকে সঙ্গী করে। অন্ধকারে পদে পদে হোঁচট খেতে হয় – পড়ে থাকা গাছের পাতা পায়ের তলায় অদ্ভুত শব্দ করে। সেই অন্ধকারেই খুঁজে বার করা ডিরোজিও, উইলিয়াম জোন্স বা হিন্দু স্টুয়ার্টের সমাধি। দিনের আলোয় অনেকবার যে জায়গায় ঘুরেছি ইতিহাসের সরণী বেয়ে – রাতের অন্ধকারে তাকেই অনুভব করছি অন্যভাবে । এখানে যেন সভা বসেছে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের – এক একটি স্তম্ভ তাদের ছায়া দিয়ে জড়িয়ে ধরছে পাশের অন্য স্তম্ভকে। বড় বড় গাছ যত্ন করে তাদের আড়াল করে রাখছে। আমরা যেন ফিরে গেছি আড়াইশো বছর আগের এক ফেলে আসা অতীতে – আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে এক কালো কুকুর – সম্পূর্ণ নিঃশব্দে । বাইরের পৃথিবী থেকে আমরা তখন বহু দূরে – কোন অতীত যুগের জীবন-মরণের পারে। অসাধারণ বাকরুদ্ধ করা এক অনুভূতি ।

DSC04115

 

DSC04125

সম্বিত ভাঙল, যখন আবার বেরিয়ে এলাম সেখান থেকে । সেই আলোকোজ্জ্বল পার্ক ষ্ট্রীট – সেই হু হু করে চলে যাওয়া গাড়ীর সারি। অতীত থেকে বর্তমানে এসে আবার আমাদের হাঁটা শুরু সেই পার্ক স্ট্রীট বেয়েই। এবারে আমাদের গন্তব্য Park Mansion. কিন্তু তার আগেই একে একে পেরিয়ে যাওয়া সেন্ট জেভিয়ারস কলেজ, Seventh Day Adventist Church আর কলকাতায় খ্রিস্টধর্মের সর্বপ্রধান ব্যক্তিত্বের বাড়ী – Archbishop’s House. । ১৮৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত যে সেন্ট জেভিয়ারস কলেজ আজ আমাদের দেশের এক অগ্রগণ্য শিক্ষাপীঠ – সন্ধ্যের পরে তার ভেতরে যাওয়ার সুযোগ আমাদের হয়নি, কিন্তু বাইরে থেকেই দেখলাম সেই বিশাল কলেজের এলাকা, শুনলাম কলেজের ছাদের বায়োলজি ক্লাস আর অন্যদিকে সেই ছাদের ওপরেই আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য এঁদের নিজস্ব অবজারভেটরির গল্প । কিন্তু শিহরিত হলাম তখনই, যখন জানলাম – এখানেই ছিল প্রাচীন কলকাতার সেই বিখ্যাত সাঁ সুঁসি থিয়েটার, যা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে – অথচ সেই সময়ে যেটি ছিল বিশাল ছটি থাম নিয়ে কিছুটা গ্রীক পার্থেননের আদলে তৈরি এক অসাধারণ স্থাপত্য আর যা জড়িত ছিল কলকাতার আদিযুগের রঙ্গমঞ্চের ইতিহাসের সঙ্গে।

এবারে শেষমেশ এসে পৌছনো গেল – আমাদের শেষ গন্তব্য পার্ক ম্যানসনে। ১৯১০ সালে তৈরি বিশাল এক বাড়ী – প্রাসাদই বলা চলে। প্রায় ৫ বিঘা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইংরাজি Uধাঁচের ভিক্টোরিয়ান আর ইন্দো-সেরাসেনিক স্থাপত্যের এই বাড়ীর মেঝে, সিঁড়ি, দরজা, সিলিঙ সব কিছুই বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে হয়। মাঝখানে বাড়ীটি কিছুটা জীর্ণ হয়ে পড়েছিল, সেই সঙ্গে নব্বইয়ের দশকে এক বিধ্বংসী অগ্নিকান্ড একে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। কিন্তু তারপরেই এটির সংস্কারে হাত দেওয়া হয় এবং বহু যত্ন করে, বহু পরিশ্রমে, বহু অর্থব্যয়ে এর পুরনো অবস্থা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পুরনো দিনের মত করেই এ বাড়ীতে সিমেন্টের পরিবর্তে চুন-সুড়কি ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্কারের সেই কাজ এতটাই নিখুঁত ভাবে করা হয়েছিল – যে সেইজন্যে ২০১৩ সালে এটি KMC-INTACH Heritage পুরস্কারে ভূষিত হয়। কিন্তু আমাদের মূল আকর্ষণ ছিল – বাড়ীর ছাদে ওঠার সুযোগ । জানা গেল – বাইরের কোন ব্যক্তিকেই এই বাড়ীর ছাদে উঠতে দেওয়া হয় না – সেদিক দিয়ে আমরা ছিলাম ব্যতিক্রম। বিশাল ছাদ – মনে হয় সেখানে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে যেন সাইকেল নয়, চার চাকা গাড়ীই চালানো যেতে পারে । ছাদের মাঝামাঝি এক সুন্দর গম্বুজ – তার ভেতরে আলোর সঠিক প্রক্ষেপ – তাকে আরো সুন্দর রূপ দিয়েছে। সেখান থেকে এবং ছাদের অন্যান্য অংশ থেকেও নীচের পার্ক ষ্ট্রীটের এক আলোকোজ্জ্বল মোহময়ী রূপ দেখা যায় – দিনের শেষে সেটাও আমাদের বাড়তি প্রাপ্তি। তিনঘণ্টার ভ্রমণ আমাদের এভাবেই সেদিন সম্পূর্ণ হল – অতীতের পথ বেয়ে বর্তমানে এসে, আবার এক অতীত ঐতিহ্যশালী বাড়ী থেকে বর্তমানের কলকাতাকে প্রত্যক্ষ করা – যার অতীত বাঙময়, বর্তমান প্রাণবন্ত আর ভবিষ্যৎ অবশ্যই উজ্জল ।DSC04171.jpg

DSC04186.jpg

Advertisements

4 thoughts on “পায়ে পায়ে পার্ক স্ট্রীট

  1. একটা অসাধারণ চিত্রায়িত বর্ণনা। পড়তে পড়তে শুধু মুগ্ধই হইনি, জানার ঝুলিটাও ভরে নিলাম খানিক। আমি নিজে থাকতে পারিনি, কিন্তু কোন খেদ রইলনা। সুব্রতদা ছবির মতন দেখিয়ে দিলেন সবকিছু। এখানে গৌতমদার সংযোজনটাও গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের নিরিখে। লেখাটি পরে কখনো ছাপার অক্ষরে আসলে খুব ভালো লাগবে।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s